ভয়ানক ছায়ামূর্তি-[পর্ব-০১] সংঘর্ষ নয়- সহমর্মিতাই হোক মানুষের পরিচয় ছাড়পত্র সালাম সালাম হাজার সালাম মেঘনাদবধ-[১ম সর্গ] সিট নম্বর একান্ন-[পর্ব-০১] দুর্বলতার প্রভাব প্রেমের তুলনা সাবিত্রী প্রশ্নাবলী
LIVE
দৈনিক চালচিত্র | dailychalchitra.com
আত্মজৈবনিক উপন্যাস

ভয়ানক ছায়ামূর্তি-[পর্ব-০১]

লেখক: শামীম নিমু

প্রকাশ: 15 July, 2026, 03:58 PM

সেই ‘কষ্ট এবং ভয়’ দুটোই আমায় এখনও কাঁদায়৷
কাজকর্ম বিহীন একা একটি ঘরে শুয়ে বসে থাকতে মোটেও ভালো লাগছিল না৷ কী করি কী করি- এমনটাই ভাবতে ভাবতে মাথাটিও আর ঠিকমতো কাজ করছিল না৷ একের পর একটি করে প্যাকেটের বিড়িগুলো শুধু গোলাপী দুই ঠোঁটের পাপড়ির ভাঁজে চেপে ধরে কাষ্ঠ শলাকা দ্বারা জ্বালিয়ে ধোঁয়া উড়ানোটাই ছিল বদ অভ্যাস৷

একা একটি পরিবার সংসারে একটিমাত্র সন্তান৷ কখনো সখনো সেই একটিমাত্র সন্তানটির যথাসময়ের প্রয়োজনীয় খরচপাতিগুলো চালানোর মতো সামর্থ্যটিও থাকতো না৷ একাকীত্ব সেই সংসারটির পাশাপাশি আরো কয়েকটি পরিবারের ঘরও ঘেঁষে ছিল৷ তবে ঐসব পরিবারগুলো আমার পরিবারটির মত তেমন কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অভাব অনটন ছিল না বললেই চলে৷

প্রত্যেকটি পরিবারের একেকজন অভিভাবকদের নিজ নিজ সংসারটা চালানোর মতো কোনো না কোনো একটি পেশাগত কর্মটিও ছিল৷ পেশাগত কর্মের পাশাপাশি ফসল চাষাবাদ করার মত তাদের সকলেরই আবাদী জমিও ছিল৷ আমার তুলনায় ওদের প্রত্যেকের সংসারগুলো মোটামুটি ভাবে বেশ ধুমধামেই কেটে যেত৷

একই ভিটায় আমরা সকলেই বসবাস করাটি সত্ত্বেও ঐসকল সুখী পরিবারের লোকজনেরা আমরা কেমনে কিভাবে দিনরাতগুলি অতিবাহিত করছিলাম সে সম্পর্কে ভালমন্দ খোঁজখবর নেবার জন্য ভুল করেও কেউ কোনদিন আমাদের ঘরের দুয়ারে এসে কখনো উঁকি দিতো না৷ কেউ কোনদিন এভাবে একথাটিও কেউ জিজ্ঞেস করতে আসতো না যে, দিনে অথবা রাতে কেনো আজ আমাদের চুলোর উপর পাতিলের তলায় আগুন জ্বলছে না!

বেশ কিছুদিন ধরে এভাবই কেটেছিল৷ কর্ম-বিহীন সংসার জীবন যে কতটা অসহ্যকর সেটা শুধু সেই জানেন-
যার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংসারে স্ত্রী সন্তান সবাই থাকার পরেও তেমন সাধারণ কোনো পেশাগত কর্ম নেই৷

এভাবে আরো কতদিন চলতে পারে! হাড়হুড্ডি রক্ত মাংস থাকা সত্ত্বেও কখনো সখনো কর্মহীন জীবনটাকে মনে হত যেন একটা মৃত লাশ৷ হঠাৎ কোনো একদিন একজন পরামর্শদাতার সুবুদ্ধির বিবেচনায় পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার্স মেশিন কিনে ফটোশপের একটা দোকান দিবো৷

দীর্ঘ কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করার পর নিজ শহরে অবস্থিত পরিচিত একটি এনজিও থেকে মোটামুটি বেশ বড় অঙ্কের একটা আর্থিক ঋণের বোঝা কাঁধে তুলে নিলাম৷ ঋণের কিছু টাকা দিয়ে দোকানঘর তৈরি করতে প্রয়োজনীয় যা যা কেনা দরকার ছিল তাই তাই কিনে নিজ হাতে গড়ে তুলে ফেললাম তিন হাত বাই সাড়ে চার হাত ছোট্ট একটি দোকানঘর৷

অবশিষ্ট বাকি টাকা থেকে কিছু সংখ্যক টাকা সঙ্গে করে নিয়ে পরদিনই রেলস্টেশনে গিয়ে সোজা ট্রেন যোগে রওনা দিলাম বগুড়া শহরের উদ্দেশ্যে৷ যাত্রা পথে প্রায় ঘন্টা দুয়েক অতিবাহিত হবার পর এসে পৌঁছেছিলাম বগুড়া রেলস্টেশন প্লাটফর্মে৷

প্লাটফর্মে নেমেই সামান্য একটু পায়ে হেঁটে রেলগেটের সামন থেকে একটা রিকশায় চড়ে সোজা সাতমাথার মোড়ে গিয়ে নেমে পড়লাম৷ সেখানকার আশপাশের একটি ইলেকট্রনিক্‌স দোকানে গিয়ে কমদামের মধ্যে ডেল কোম্পানির একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার্স, সনি ডিজিটাল ক্যামেরা সহ চলার মতো একটি সাউন্ড বক্স কিনে ফেললাম৷


রচনাকালঃ ২০-০১-২০২৩ইং।

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য