ভয়ানক ছায়ামূর্তি-[পর্ব-০১] সংঘর্ষ নয়- সহমর্মিতাই হোক মানুষের পরিচয় ছাড়পত্র সালাম সালাম হাজার সালাম মেঘনাদবধ-[১ম সর্গ] সিট নম্বর একান্ন-[পর্ব-০১] দুর্বলতার প্রভাব প্রেমের তুলনা সাবিত্রী প্রশ্নাবলী
LIVE
দৈনিক চালচিত্র | dailychalchitra.com
কাল্পনিক গল্প

সিট নম্বর একান্ন-[পর্ব-০১]

লেখক: শামীম নিমু

প্রকাশ: 11 July, 2026, 04:20 AM

ইসিজি চেকাপ করার পর অ্যামিরিকান অরিস্ট হসপিটাল থেকে ডক্টর মিস্টার ট্রেঙ্কক্লার-বাই জানালেন,
আপনার রিপোর্টে যে রোগটা ধরা পড়েছে তার নামটা হলো- ফিসিং ডেটথ্, যে রোগটি এর আগে আর অন্য কারো শরীরে কখনোই ধরা পড়েনি। তাছাড়া অভিজ্ঞ ডাক্তার বিশেষজ্ঞদের মতে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুব বেশি জোর দেড় থেকে দুইমাসেই বেঁচে থাকতে পারেন৷

এভাবে আর কতদিন একা শুয়ে থাকা যায়?
এ ঘরে আমার সবেই আছে, শুধু নেই পাশে থাকার মতো কেউ একজন৷ কেউ আমার পাশে থাকুক বা নাই থাকুক তবে নিঃসঙ্গ এই জীবনের শিরা উপশিরায় অচেনা একটা রোগ ঠিকই এসে বাসা বেঁধেছে। যে রোগের নামটা আমি ও ডাক্তার ব্যতীত আর কেহই জানত না৷ তাছাড়া কখনো আমি কাউকে বুঝতেই দেইনি যে আমার এই দেহের ভিতরে লুকিয়ে লুকিয়ে খেলা করছে নিঃশ্বাস শুষে খাওয়া অচেনা একটি রোগ৷

রোগ ও রুগীদের সঙ্গে সর্বক্ষণ আঁখিজলে কাটে আমার নিদ্রাহীনতায়৷ রোগের কারণে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এভাবে প্রায় বেশ কিছুদিন হাসপাতালেই গত করলাম৷

ইতিপূর্বে কোনো একদিন,

সামনে বর্ষা মৌসুম, যেকোন সময়ই হয়তবো বৃষ্টি নামতে পারে৷
তাই ফসল ক্ষেতে অন্যান্যদের আর যাদেরই ফসল গুলো রয়েছে সবাই সেগুলো তাঁরা কেটেকুটে তড়িঘড়ি করে বাড়ির সমানের আঙিনায় তুলে তা গুছিয়ে রাখছে৷

সারাদিন কাজকর্ম করে সবাই ক্লান্ত। এজন্য বাড়ির লোকজনেরা সহ পাড়া প্রতিবেশীরা সকলেই আজ রাত আটটার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়েছে৷

বেশ ভারি মিষ্টি একটা মেয়ে নূরী৷ সে হলো আমার বড় মামার আদরের ছোট মেয়ে, অর্থাৎ নূরী আমার আপন মামতো বোন৷ যতদূর জানি, ওর বয়সটা তখন সম্ভবত এগারো বা বার বছরের মতো হবে৷ প্রাইমারি শেষ করে সবেমাত্র সে হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ছিল৷

একত্রিশ বছর ধরে যাকে আমি ভালোবাসতাম তাঁর সঙ্গে আমার গত দুই বছর পূর্বে ব্রেকাপ হয়ে গেছে৷
এমন গভীর ঘন সম্পর্কটা আমাদের ভেঙেছিল শুধুমাত্র সামান্য কিছু অভিমানে। অবশ্য এরকম দীর্ঘকালীন সম্পর্কগুলো অল্প কিছু অভিমানেই তা ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। এরপর যদি সেই টুকরো অভিমানগুলো হাজারো নিখুঁতভাবে জোড়া লাগানো হয় তারপরেও জোড়ার মাঝে দাগগুলো সেই ঠিকই তা থেকে যায়৷

আজ থেকে প্রায় গত তিন চার মাস পূর্বের কথা, ঠিক ততটা স্মরণও নেই৷

সেদিন সন্ধ্যেবেলা কোনো এক অপরিচিত ছেলের সঙ্গে নূরী আমার দোকানের সামন দিয়ে রিকশায় চড়ে কোথায় যেন যাচ্ছিল৷ ঐ মুহূর্তে আমার দোকানে বেশ কয়েকজন কাস্টোমারও উপস্থিত ছিল৷
সেদিন দোকানে পর্যাপ্ত কাস্টোমার থাকা অব্দিও হঠাৎ আমার দৃষ্টি পড়েছিল নূরীর প্রতি, দোকান থেকে চট জলদি বের হয়ে চলমান রিকশার পিছন থেকে নূরীকে আমি ওর নাম ধরে বড় গলায় ডাক দিলাম,

-নূরী… নূরী….এই নূরী…

নূরী আমার ডাক শুনতে পেয়ে পিছন ফিরে একটিবার সে দেখেছিল কিন্তু পরে তাঁর পাশের সিটে বসা ছেলেটি কী যেন একটা কিছু ওকে বলতেই সে আর তখন আমার দিকে না তাকিয়ে অমনি সোজা সে চলে গেল ওদেরই গন্তব্যের দিকে৷


রচনাকালঃ ১১-০৭-২০২৬ইং।

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য