ভয়ানক ছায়ামূর্তি-[পর্ব-০১] সংঘর্ষ নয়- সহমর্মিতাই হোক মানুষের পরিচয় ছাড়পত্র সালাম সালাম হাজার সালাম মেঘনাদবধ-[১ম সর্গ] সিট নম্বর একান্ন-[পর্ব-০১] দুর্বলতার প্রভাব প্রেমের তুলনা সাবিত্রী প্রশ্নাবলী
LIVE
দৈনিক চালচিত্র | dailychalchitra.com
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ

সংঘর্ষ নয়- সহমর্মিতাই হোক মানুষের পরিচয়

লেখক: শামীম নিমু

প্রকাশ: 15 July, 2026, 02:45 PM

একজন বীর কখনো বিড়ালের সাথে লড়াই করে না, সে লড়াই করে সিংহের সাথে। তেমনি মশা মারতে কামান ব্যবহার করে শুধু বোকা আর ভীতুরাই। এই কথার প্রসঙ্গে এটুকুই বলবো, প্রকৃত শক্তি শুধু শারীরিক বা অস্ত্রে নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও যুক্তিবোধেই তা নিহিত হয়।

আমরা প্রায়ই ছোটখাটো বিষয়ে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ি, সামান্য কথায় রাগ করি, তুচ্ছ কিছু কারণে বিবাদে জড়িয়ে পড়ি। অথচ যদি আমরা একটুখানি গভীরভাবে ভেবে দেখি, তাহলেই বুঝতে পারবো- প্রতিটি মানুষ তার সম্মান, ব্যথা ও অনুভূতিগুলো জড়িয়ে জীবনের পথে চলছে। আর সেইসবকে অবহেলা করাটি মানে নিজের মনুষ্যত্বকেই ছোট করা।

রাগের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে।

যে নিজেকে সামলাতে পারে, সেই-ই হলো মানুষ গড়ার কারিগর।

এছাড়া আমাদের একথাটিও সবসময় স্মরণ রাখা খুব জরুরী যে,

রাগ মুহূর্তের আগুন, যা মুহূর্তেই একটি সুসম্পর্ক পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে।

আবার-
যে ধৈর্য ধরে নিজেকে জয় করতে পারে, সেই-ই হলো প্রকৃত জয়ী।

কেননা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

শান্তির বিজয় কখনো যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আসে না, বরং সেটা আসে ক্ষমা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে।

আজকের সমাজে যেখানে প্রতিযোগিতা আর অহংকারে মানুষ নিজেকে প্রমাণ করতে চায়, সেখানে সহানুভূতি ও সংযমই একজন মানুষের প্রকৃত মহত্বকে প্রকাশ করে।

প্রতিটি বিবাদ একেকটি অমানবিকতার দরজা খুলে দেয়, আর প্রতিটি ক্ষমা বন্ধ করে দেয় সেই দরজাটি।

একজন জ্ঞানী কখনো অপমানের প্রতিশোধ নেয় না, বরং সে অন্যমনস্ক হয়ে যায়, কারণ তিনি জানেন, ভালোমন্দের বিচার সময়ই তা করে দেয়।

তুচ্ছ বিষয় ধরে যে লড়াই করে ক্ষণিকে জিততে চায়, সে হারিয়ে ফেলে তাঁর স্থায়ী সম্মান। আর যে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে, সে হয় মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে বসা একজন বিজয়ী।

এছাড়া সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ যেটি তা হলো-
নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যকে কখনই ছোট না করা।

আজ যখন আমরা একে অপরে মারামারি, হিংসা আর বিদ্বেষে জর্জরিত, তখন প্রয়োজন একটুখানি মন দিয়ে শোনা, একটুখানি অনুভব করে ভাবা, একটুখানি নিজেকে সংযত রাখা।

আমরা মানুষ, আমাদের অস্ত্র হওয়া উচিত যুক্তির, হৃদয় হওয়া উচিত মমতার, আর ভাষা হওয়া উচিত শান্তির।

এই মূলনীতিগুলো যদি হৃদয়ে ধারণ করতে পারি তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে মানুষ হতে পারবো।

বিবাদ নয় বরং বোঝাপড়া, এটাই হওয়া উচিত জীবনের মূলমন্ত্র। আমরা প্রতিটি বিবাদের আগে যদি এভাবে অন্তত একটিবার ভাবি যে,

“আমি কি সত্যিই এই তর্কে জিতলে একটা কিছু অর্জন করতে পারবো?”

তাহলে হয়তো অনেক তর্কই নিজের থেকে অমনি থেমে যেতো।

বিরক্তির জবাব যদি ‘নীরবে’ দেয়া যায়, তবে সেই নীরবতাই হয়ে উঠবে তার ক্ষেপানাস্ত্র।

মূলত…
যার মুখের ভাষায় ও ভাবনায় সান্ত্বনার ছোঁয়া থাকে, সে নিজেও শান্ত থাকে এবং আশেপাশের সবাইকেও শান্ত রাখার চেষ্টা করে।

তাই এই সমাজকে শান্তিতে আনতে হলে আমাদের প্রত্যেককেই হতে হবে সহানুভূতিশীল, ক্ষমাশীল এবং সহনশীল।

সুতরাং, আসুন আজ থেকে আমরা সকলে এই প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হই যে,

আজ থেকে আমরা আর কখনো কারো সাথে ঝগড়াঝাঁটি করবো না।

কোনদিন কারো মনে কখনই কষ্ট দেবো না।
আমরা সবসময় নিজেকে জয় করার চেষ্টা করবো।

এবং ভালোবাসা ও সহানুভূতির পথযাত্রায় একটি মানবিক সমাজ গড়ার চেষ্টা করবো।


রচনাকালঃ ০৯-০৫-২০২৫ইং।

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য