চলিতে চলিতে যবে চাহিনু-
নেত্র দু’খানির অবলোকন মেলি,
সঙ্গের শুভার্থী পাশ ঘেঁষে রহিয়া মোরে কহিলো-
ক্ষৌণীর উপরে যাহাই রহিয়াছে পড়ে- নিবি.?
তবো..নাও তুলি।
জিজ্ঞানু উহারে গুরুগম্ভীর স্বরে-
এতো সুখানুভব খেলিতেছে ক্ষৌণীর ভুঁইয়ে…
সখার সুখীজন কোথাকার কাহার নেত্র জলে
ভাসিতেছে ওহে.?
কহিলো হেসে,
তুলনাহীন রূপসী, হরিণী শোভায় অনটন-
স্বপনের বাগিচায় মগ্ন স্বর্গবাসে.!
কহিলুম মনস্তাপে-
ফেলেছিনু যেই স্মৃতিচিহ্ন,
সাধের স্মৃতি মোরে ফের নাড়িল চিত্ত ক্ষণে;
তবো কহি হে শুভার্থী খেই রূপকথা চরণে-চরণে!
যবে উঠেছিনু ক্লান্তি ভারে.!
ভাবিলুম,
বিহগের কলরবে এহি বুঝি হঠাৎ উঠিবেন জাগি-
গ্রহরাজ মহাশয় কুহেলিকার গগনে.!
কহিনু,
চলো, চলো প্রিয়তমা,
দু’জনের খানিক দুখ্ গুঁজিয়া আসি তবো ঐখানে.!
ধবলা মুখকমলে কৃষ্ণ কালো ভ্রুরেখায়
লাল টিপখানি,
পরনে পরিহিত হতভাগীর
হলুদ জামদানী,
জানালার কপাট মেলি দেখিনু-
অনল্প বিশ্রী তফাৎ রাতের শশী রাণী.!
ফেলিছে চুলের গোছাখানি
নীলবর্ণ তাকিয়ার পিছু,
যাহারে কহিতে পারে নাই
প্রেমের সরমে কিছু,
হায়.! হায়.! এ কী হিরন্ময় দেখিনু.!
সৌভাগ্য রূপে দিয়েছিনু সাজের ক্ষুদ্রতম
একখানা নাসিকা’র ফুল,
আঁকিছে বেহুঁশে রমণী অধর দুটো ডালায়
লাজ নিশানার কূল.!
বুঝিনু আঁধারে বসি,
হতভাগী প্রিয়তমা মোর আসিয়াছে নীরব সীমায়-
গাহিতে হৃদয় মনোহরণের গীত;
বিষম অতলে হানে- নরত্বের বিষ তীর,
শিহরণে কাঁপিলুম বসি,
অনুভবে নাহি কভু শীত.!
আধো-আধো নিদ, কিবা সয়, কিবা স্মরি পুষিয়া লয়,
নিভানু যবে সখের প্রদীপ,
ক্ষণিকে উহাই হৃদয়ে ভরিয়া বিভেদ কণিকায়
নিমেষেই গড়িলো ঔদ্ধত্যের অসীম দ্বীপ.!
প্রিয়তমা,
এতদিনে এতো ঔদ্ধত্যের তরঙ্গ
রেখেছিলে কোন্ গুপ্ত স্থানে.?
হায়.! দেখিনু যাহারে এহি-
পহেলা নবীন দুটি তারার কোণে৷
রচনাকালঃ ০৮-০৮-২০২১ইং৷
মন্তব্য করুন