শিশুরা সব স্কুলে যায়
বাঁশঝাড়ের পথ ধরে,
প্রকৃতির ঐ আলোছায়
সকলের হৃদয় কাড়ে।
পাহাড় পেরিয়ে উঁকি দেয়
রৌদ্র-ভেজা দিন,
আকাশ জুড়ে স্বপ্ন রাঙায়
সবুজ-মাটির ঋণ।
নদী বহে আপন মনে
তরী ঘাটে ফেরে,
ক্লান্ত মাঝি নাড়ীর টানে
ছোটে তাঁর নীড়ে।
পশ্চিম প্রান্তে চাঁদ ঢলে পড়ে
তরীর ছায়ায় ধরা,
পৃথিবীর কোলে আসে ফিরে
একটি দিনের তারা।
সাঁঝের আলো ছোঁয়
আকাশপথের রেখা,
নদীচরে নৌকা বায়
ঘনিলো তরঙ্গে বাঁধা।
মাঠ পেরিয়ে গোধূলি
বিদায় জানায় হেসে,
পাখি সব ডানা মেলি
নীড়ে ফেরে শেষে।
ঘাটে বসে বৃদ্ধ জেলে
জাল গোটায় ধীরে,
দিন-শেষে ক্লান্তি এলে
চোখে স্বপ্ন ঘিরে।
আলোর রেখায় জোনাকি
নৃত্য করে রাতে,
রমণী বারান্দায় বসি-বসি
তাই গোনে হাতে।
ছোট্ট শিশুটি ঘুমায় নীরবে
মায়ের কোলে,
চাঁদের আলোয় মুখে তবে
যেন সোনা জ্বলে।
লিখে যায় কোন্ সে কবি
জানালার পাশে বসে,
দুপুর দেখা ঐ নদীর ছবি
চাঁদের মায়ায় মিশে।
বাউল গেয়ে ফেরে গাঁয়
একতারার সুরে,
তাহার গানেও মিশে রয়
ভাটিয়ালির স্বরে।
পাহাড় ঢলে বয়ে আসে
প্রেমের বারতা,
নীল গগনে মৃদু বাতাসে
ভাসে সেই কথা।
প্রকৃতির এমন ছন্দ-টান
বাঁধে সকল প্রাণে,
জীবনের এই কাব্য-গান
বাজে নিশিদিনে।
সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে
তাঁবু খাটায় রাত,
তারা জ্বলে গগন জুড়ে
স্বপ্নের বজ্রপাত।
মাঠের ধারে কুয়াশা নামে
শিস তোলে হাওয়া,
পল্লীগান শোনা যায় কর্মে
কৃষকমুখী গাওয়া।
রচনাকাল: ১৫-০২-২০২৬ইং।
মন্তব্য করুন