ভাটার ধোঁয়া পেরিয়ে শেষে
বসে জুড়ায় ক্লান্ত মন,
মাটির গন্ধে যেন মুগ্ধ বেশে
আলোর নগর জীবন।
ভিড়ের মাঝে একলা দাঁড়িয়ে
শুনছে সে সুমধুর সুর,
বাঁশুরিয়ার বাঁশির মতোই যে
বেজে ওঠে অন্তরপুর।
আকাশটা যেমন ঢেকে রাখে
কংক্রিটের ছাদ,
মনের রঙে তেমনি স্বপ্ন আঁকে
যেন চাঁদের সাধ।
পথের ধারে এক ফুল বিক্রিতা
শিশু তাহারে দেখে,
কিশোরের অন্তরে এমনি বার্তা
জাগিল একই শাখে।
চিঠির পাতায় লেখে মাকে
আসিব শীঘ্রই ফিরে,
বাড়ির পাশেই নদীর বাঁকে
তরীতে বসি তীরে।
পুনরায় ফিরে গ্রামের পথে
চেনা ধানের সেই গন্ধ,
পাখির মতোই খাঁচা ভেঙে
পায় সে নিজের ছন্দ।
শালিক ডাকে, খেজুর গাছে
রোদে বসে হাসে,
কত স্মৃতি তাহারে পিছু যাচে
মন হারায় শেষে।
শিশুরা খেলছে পুকুরপাড়ে
দূর পাহাড়ের গায়,
তরুণেরা সব তারই জেরে
মুগ্ধ কথা শোনায়।
কী মধুর সেই প্রকৃতির গান
ফুরায় না গাঁয়ের পথ,
এই ধরণী, এই নদীরই টান
লাগে সত্য সত্ত্ব বৃহৎ।
অথৈ নদীর জল, পাহাড়ী ঢল
কত কিছুর বিচরণ,
বৃদ্ধ বয়সী চায় ফিরে অবিকল
বাল্য বেলার জীবন।
মাঠে ভরা ফুল, সোনালি ধান
সকাল বিকেলের রোদ,
মনে তাহাদের তরুণেরই শান
নেই তবে কোনো ক্রোধ।
রচনাকাল: ০৫-০৮-২০২৬ইং।
মন্তব্য করুন