টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি ফের দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদীটি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এই তিনটি নদীও বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে বইছে। উজানে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বন্যা আতঙ্কে কৃষক ও চরাঞ্চলের মানুষ
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে চলতি মৌসুমে দুই দফা বন্যায় জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি তলিয়ে যায়।
নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে যারা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে আমনের বীজতলা ও সবজি চাষ শুরু করেছিলেন, তারা ফের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক দুই দফা বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমনের বীজতলা, পাট, পটল, ঝিঙা, ঢেঁড়স, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি। পানিতে দীর্ঘদিন ডুবে থাকায় এর অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান হয়েছে।
৪২ পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন
গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ওঠানামা করার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের হরিরাম ও বুড়িরবাজার এলাকায়, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে, ব্রহ্মপুত্র নদের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের জলাঙ্গরকুটি এবং সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর এলাকায়। এসব এলাকায় প্রতিদিনই বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণে জেলার ৪২টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। যেসব স্থানে ভাঙন তীব্র, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন