[গাজার ধ্বংসস্তূপ একটি ঘর হতে বাস্তব এক চিৎকার..]
গাজার পুরনো একটি গলির- নাম ছিল “শাজাইয়া।” সেখানকার পুরুষেরা রাতে গভীর নিঃশ্বাসে ঘুমাত, কারণ তাঁরা জানত না যে সকালে কে বাঁচবে আর কে পড়ে থাকবে ধ্বংসস্তূপের নিচে।
তেমনই এক গলির একটি ঘরে বাস করতেন আবু সালেহ, তাঁর স্ত্রী আমিনা, আর দুই সন্তান, মাহি(১০) ও লায়লা(৬)। দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের কাটতো মোমবাতির আলোয়- বিদ্যুৎ নেই, পানি অনিয়মিত, আর খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ঘন্টার পর ঘণ্টা।
এর মাঝেও, লায়লা প্রতিদিন তাঁর পুতুল ‘রিমাকে’ জামা পরাত, আর বলত- “রিমা, আজ তুই বাইরে যাবি না, বোমা পড়তে পারে।”
এক সন্ধ্যায়, ঠিক ইফতারের আগ মুহূর্তে, আবু সালেহ তাঁর ছোট রেডিওতে খবর শুনছিলেন- “ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে হামলা শুরু করেছে।”
এরপর মাত্র দশ মিনিট। পুরো গলিটাই কেঁপে উঠলো এক অমানুষিক বিস্ফোরণে। তাদের ঘরভর্তি ধুলো, আগুন, এবং চাপা চিৎকার।
আবু সালেহ কোনরকম চোখ খুলে দেখতে পেলেন চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। তিনি তাঁর স্ত্রী সন্তানদের কাউকেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিছু দূর হতে মাহির গলা শোনা যাচ্ছিল, “আব্বু! আমি এখানে!”
ধ্বংসস্তূপের নিচে তাঁর পা আটকে গেছে, আর পাশে পড়ে রয়েছে লায়লার নিথর শরীর। তাঁর ছোট্ট পুতুল ‘রিমা’- ছিন্ন একটি মাথাই কেবল দেখা যাচ্ছে।
“আব্বু, লায়লা নড়ছে না… আমি ওকে ডেকেছি… ও চোখ খোলে না…” -মাহি ভেঙে পড়লো।
আবু সালেহ অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে টেনে বের করতে পারলেন না।
“আব্বু তুমি আমায় এখানেই রেখে দাও… আগে লায়লাকে তুলে নাও…”
ঠিক সেই মুহূর্তে আরও একটি বিস্ফোরণ। এরপর… নিস্তব্ধতা।
তিনদিন পর, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা গেলো- শাজাইয়া এলাকার ১২টি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আবু সালেহ, মাহি, লায়লা, আমিনা- সবাই মারা গেছে। সেখান থেকে কেবল একটি জিনিসই উদ্ধার করা গেছে- সেটি হলো একটি চিঠি। অর্ধপোড়া কাগজ, মোমবাতির কালিতে লেখা ছিলো-
“যদি আমি মারা যাই, তবে আমার লায়লার পুতুলটা রেখে দিও। যেন এ পৃথিবীর কেউ জানে, সে খেলতো। সে কখনো যুদ্ধ করেনি।”
উপসংহার:
এই গল্পের মতোই হাজারো পরিবার আজ গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে, যাদের নাম কেউ জানে না। যারা কোনো সন্ত্রাসী নয়, কোনো যুদ্ধেও জড়িত ছিলো না- যারা শুধুমাত্র অল্প কিছুদিনের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিল।
গাজার আকাশে আজ শুধু যুদ্ধ বিমান উড়ছে, ঘরগুলি জ্বলছে আগুনে, আর শিশুদের কণ্ঠে ভেসে বেড়াচ্ছে করুণ চিৎকার- কিছুটা এই গল্পটি তারই এক প্রতিচ্ছবি, যা পৃথিবীর বিবেককে প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
রচনাকাল: ০৮-০৪-২০২৫ইং।*০৮-০৪-২০২৫ইং।
মন্তব্য করুন