মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, গত সোমবার টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
সিবিএস নিউজের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসে ইরানের লাগাতার হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এটি গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা।
জানা গেছে, গত সপ্তাহান্তে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে ইরাকে একটি ইরানি ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে আরেক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সপ্তাহান্তে মোট তিনজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারালেন।
মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান প্রতিবার একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে।
এদিকে যুদ্ধ থামাতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাঁচাতে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি মঙ্গলবার পাকিস্তানে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
গত মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া অস্থায়ী সমঝোতা তৈরিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এখন ইসলামাবাদ আবারও দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছে, যদিও গত এক সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ে জুনের সেই সমঝোতা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা হতে হবে বাস্তবসম্মত।
মন্তব্য করুন