ক্ষমতা হারানোর তিন মাসের মধ্যেই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া তৃণমূলের জোড়া সমাবেশে সব মিলিয়েও জমায়েত ১০ হাজার পেরোয়নি, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র পাঁচ শতাংশ বলে দাবি পুলিশ সূত্রের।
লালবাজার সূত্রে খবর, সোমবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সভায় হাজির ছিলেন প্রায় আট হাজার কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর সভায় উপস্থিতি ছিল বড়জোর হাজার থেকে দেড় হাজার।
১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২১ জুলাই দিনটির একচ্ছত্র দাবিদার ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে যুব কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলের ব্যানারে প্রতিবারই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েতের দাবি করা হতো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত তিন দশকে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ মানুষের জমায়েত হতো ওই দিন। কিন্তু ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতা হারিয়ে এবার সেই ছবিটা একেবারে উল্টো।
বিজেপির কটাক্ষ
এই কম জমায়েত নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, যারা নিজেদের সমর্থকদের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের সাথে বাংলার মানুষ আর নেই। তার কথায়, তৃণমূল এখন মানুষের কাছে পরীক্ষিত এবং পরিত্যক্ত। দুই তৃণমূল মিলেও ১০ হাজার লোক জোগাড় করতে পারেনি।
দুই শিবিরের পাল্টা দাবি
যদিও মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কম জমায়েতের কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, আমি যতদিন ২১ জুলাই দেখছি, আজ সর্বোচ্চ জমায়েত দেখেছি।
অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, আদালত জমায়েতের সংখ্যা বেঁধে দিয়েছিল। ওদিকে আড়াই হাজারের বেশি জমায়েত করা যাবে না বলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অনধিক তিন হাজার লোক নিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মসূচি পালন করতে পারবে।
মন্তব্য করুন