চলতি অর্থবর্ষে সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। আগামী দুই মাসের মধ্যেই পরবর্তী উৎক্ষেপণ করা হবে বলে শনিবার ঘোষণা করেছেন ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন।
শনিবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘বিক্রম ১’ রকেট। স্কাইরুট এরোস্পেসের তৈরি এই রকেটটিই দেশে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি প্রথম রকেট। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের দিনেই আগামী দিনের পরিকল্পনা জানিয়ে দিল ইসরো।
ইসরো প্রধান জানান, আগামী দিনে যে সাতটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেছে। বাকি পাঁচ থেকে ছয়টি উপগ্রহ তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অর্থবর্ষে অন্তত সাতটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি আমরা। আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা শুরু হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে ‘গগনযান’ নিয়েও জোরকদমে কাজ চলছে। এটিই হবে ভারতের প্রথম মনুষ্যবিহীন মহাকাশ অভিযান।
বেসরকারি উদ্যোগকে মাইলফলক বলল ইসরো
শনিবার স্কাইরুট এরোস্পেসের রকেট উৎক্ষেপণকে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন নারায়ণন। এই বেসরকারি সংস্থার দুই প্রতিষ্ঠাতা পবনকুমার চন্দন এবং নাগা ভরত ডাকা দুজনেই ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী।
ইসরো প্রধানের মতে, ‘বিক্রম ১’-এর এই সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক বিকাশেও গতি আনবে। বর্তমানে দেশে মহাকাশ গবেষণা নিয়ে প্রায় ৪০০টি স্টার্টআপ সংস্থা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হচ্ছে তামিলনাড়ুতে
ইসরো প্রধান আরও জানান, তামিলনাড়ুর কুলাসেকারাপাট্টিনামে ইসরোর দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এতদিন অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকেই সব উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হতো। কিন্তু ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি ওজনের ছোট উপগ্রহের জন্য এত বড় লঞ্চ প্যাড ব্যবহার করা সুবিধাজনক নয়। সেই কারণেই তামিলনাড়ুতে নতুন এই কেন্দ্রটি তৈরি হচ্ছে।
আপাতত শ্রীহরিকোটা থেকেই উৎক্ষেপণ চলবে। কুলাসেকারাপাট্টিনামের কাজ প্রায় শেষের পথে এবং চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই এটি চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন