ভাঙা তৃণমূলে ভাটার টান! ২১ জুলাইয়ের জোড়া সমাবেশে জমায়েত গত বছরের পাঁচ শতাংশ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেন মিশরের রাজকন্যারা! ৪০০০ বছর আগের মমি গবেষণায় চাঞ্চল্য আইসিইউয়ে অমিতাভ বচ্চন, জীবনের কঠিনতম সময়ের কথা জানালেন নিজেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ১০ম রাতেও বিমান হামলা, ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত প্রায় ১০০ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস (COVID-19): উৎপত্তি, বিস্তার, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও বর্তমান পরিস্থিতি WordPress বনাম Custom Website: আপনার ব্যবসার জন্য কোনটি সেরা? ওমানে মৌখিক সাহিত্য এখন ভিজ্যুয়াল আর্টে: ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার পথে অবশেষে উপলব্ধি লামিন ইয়ামাল: পরিচয়, পরিবার ও ধর্ম সাত কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবে ইসরো! আগামী দু’মাসেই পরবর্তী উৎক্ষেপণ
LIVE
দৈনিক চালচিত্র | dailychalchitra.com
বিজ্ঞান

অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেন মিশরের রাজকন্যারা! ৪০০০ বছর আগের মমি গবেষণায় চাঞ্চল্য

লেখক: ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: 21 July, 2026, 10:48 PM

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই সভ্যতার অনেক অজানা রহস্য এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এবার ৪ হাজার বছর আগের মমি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চমকে গেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা বলছে, প্রাচীন মিশরের রাজকন্যারা শুধু রাজপ্রাসাদে বসে থাকতেন না, রীতিমতো অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেও পারতেন!

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে দাহশুর গ্রাম। নীল নদের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই গ্রামের একটি পিরামিডের ভেতর থেকেই পাওয়া গিয়েছিল আলোচিত মমিগুলো। ধারণা করা হয়, এগুলো মিশরীয় সভ্যতার মধ্য পর্বের (২০৩০ থেকে ১৬৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ত্রয়োদশ রাজবংশের সদস্যদের মমি।

১৮৯৫ সালে আবিষ্কার, হারিয়ে গিয়ে ফের উদ্ধার ২০২০ সালে

১৮৯৫ সালে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জ্যাক ডি মরগান দাহশুরের ওই পিরামিড থেকে মমিগুলো আবিষ্কার করেন। পরে ১৯১৫ সালে সেগুলো কায়রোর তাহরির জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু একটি কাঠের বাক্সে অবহেলায় ফেলে রাখায় সময়ের সাথে সাথে মমিগুলো হারিয়ে যায়।

দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকার পর ২০২০ সালে মিশরের বেনি-সুয়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক জেনাব হাশেশ আবারও সেই মমির দেহাবশেষগুলো খুঁজে পান। এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন করে গবেষণা। সম্প্রতি তাদের সেই গবেষণাপত্রটি ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

মমির সাথে পাওয়া গিয়েছিল রত্নখচিত অস্ত্র

গবেষকরা জানান, পিরামিডে পাওয়া মমিগুলোর মধ্যে একটি ছিল পুরুষের, যিনি ত্রয়োদশ রাজবংশের রাজা হোর। বাকি চারটি ছিল রাজকন্যাদের — নুব-হোটেপ, ইতা, খেনমেত এবং ইতাওয়েরেত। ধারণা করা হয় তারা ফারাও আমেনেমহাত-২ এর কন্যা ছিলেন।

মরগান যখন প্রথম মমিগুলো আবিষ্কার করেন, তখন মমিগুলোর সাথে রত্নখচিত তলোয়ার, ধনুক এবং গদার মতো অস্ত্রও পাওয়া গিয়েছিল। আগে সাধারণত পুরুষদের মমির সাথেই এমন অস্ত্র পাওয়া যেত, তাই একশ বছর আগে নারীদের মমির সাথে অস্ত্র পাওয়ার বিষয়টিকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। অনেকেই ভেবেছিলেন, মৃত্যুর পরের জীবনের বিশ্বাস থেকে হয়তো তাদের সাথে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে।

হাড়ের বিশ্লেষণে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য

কিন্তু নতুন গবেষণায় মমির হাড় পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, রাজকন্যাদের হাড়ে এমন কিছু ক্ষয় এবং চিহ্ন রয়েছে যা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ঘোড়ায় চড়া এবং অস্ত্র চালানোর কারণে হয়। বিশেষ করে তাদের কাঁধ, হাত এবং মেরুদণ্ডের হাড়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।

গবেষকদের মতে, প্রাচীন মিশরের রাজকন্যারা শুধু শৌখিন জীবন কাটাতেন না, প্রয়োজনে তারা যুদ্ধক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিতে পারতেন এবং অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ছিলেন। এই আবিষ্কার প্রাচীন মিশরে নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের ধারণাই বদলে দিল।


0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য