গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে চলছে একটি বিশেষায়িত বিদ্যালয়। ২১৩ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুর শিক্ষা ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আজও মেলেনি সরকারি স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি। এমনই এক মানবিক সংকটে দিন কাটছে গাইবান্ধা সদরের রামচন্দ্রপুর এ.আর. বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের।
এই বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, মাননীয় সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মহোদয় বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে সকল কাগজপত্র ও অবকাঠামো সঠিক পাওয়া গেছে। আজই পূর্ণাঙ্গ ফাইল মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হচ্ছে।
কেন এই প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য?
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সকল শর্ত পূরণ করেছে:
১. সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা মডেল: প্রতিষ্ঠানটি “জেলা মডেল এনডিডি স্কুল” হিসেবে নিজস্ব নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা বিরল।
২. অবস্থান ও অবকাঠামো: জেলা সদরের নিকটে, নিজস্ব টিনশেড ভবন, ৮টি শ্রেণি কক্ষ, স্পেশাল সেন্সরি রুম, খেলার মাঠ ও পৃথক টয়লেট সুবিধা রয়েছে।
৩. শিক্ষার্থী ও সাফল্য: ২০১২ সাল থেকে ২১৩ জন বিশেষ শিশুকে বিনা বেতনে শিক্ষা ও থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্পেশাল অলিম্পিক সাব গেমস ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে।
৪. বিশেষায়িত সেবা: স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, ফিজিওথেরাপি এবং প্রত্যেক শিশুর জন্য Individual Education Plan (IEP) অনুযায়ী পাঠদান চালু আছে।
শিশুদের মানবেতর জীবন:
এই ২১৩ জন শিশুর বেশিরভাগই হতদরিদ্র পরিবারের। সরকারি স্বীকৃতি না থাকায় তারা সরকারি উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা থেকে বঞ্চিত। থেরাপিস্টের অভাবে অনেক শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তাদের বাবা-মা দিনের পর দিন সন্তানকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষকরা ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে জাতির এই বিশেষ সন্তানদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এটি সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও “কাউকে পিছনে ফেলে নয়” নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
অতএব, গাইবান্ধা জেলার এই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জেলা মডেল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টিকে দ্রুত স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির আওতায় এনে ২১৩ জন প্রতিবন্ধী শিশুর সাংবিধানিক অধিকার ও শিক্ষকদের শ্রমের মর্যাদা প্রদানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক
মোছাঃ শাকমিন খাতুন (এমএ,বিএসএড)
ফোন নম্বর: 01724553165
২২-০৭-২০২৬ইং।
মন্তব্য করুন