ওয়ার এন্ড পীস -[প্রথম খণ্ড, অধ্যায়-১] বিশ্বাস সেই সম্পদ জর্দা খান কবিদের মনমানসিকতা ও সমালোচনার সংস্কৃতি প্রেমের প্রস্তাব ফেরানোয় রাবি ছাত্রীকে অস্ত্রের ভয় ও হুমকির অভিযোগ ওয়ার এন্ড পীস -[প্রসঙ্গ কথা] অভিমান, ৫ম খন্ড পর্যন্ত মানুষ কে? বুনো হাঁস মেঘনাদবধ-[২য় সর্গ-০২]
LIVE
দৈনিক চালচিত্র | dailychalchitra.com
ঐতিহাসিক মহাউপন্যাস

ওয়ার এন্ড পীস -[প্রথম খণ্ড, অধ্যায়-১]

লেখক: লিও তলস্তয়

প্রকাশ: 30 July, 2026, 07:51 PM

“আচ্ছা প্রিন্স, তাহলে তো জেনোয়া ও লুক্কা এখন বোনাপার্তদের পারিবারিক সম্পত্তি বিশেষ। কিন্তু আমি আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি, একেও যদি আপনি যুদ্ধ না বলেন, এখনও যদি সেই খৃস্টবৈরীর-আমি সত্যি বিশ্বাস করি যে সে লোকটি খৃস্টবৈরী-জঘন্য আচরণ ও সন্ত্রাসকে সমর্থন করেন, তাহলে আপনার সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না, আপনি আমার বন্ধুও থাকবেন না, বা আপনি যে নিজেকে আমার ‘বিশ্বস্ত দাস’ বলে প্রচার করে থাকেন তাও আর থাকবেন না। কিন্তু আপনার হলো কি? মনে হচ্ছে আপনাকে খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছি-বসে পড়ন, আর সব খবর আমাকে বলুন।”

১৮০৫-এর জুলাই মাস; বক্তা খ্যাতনামা আন্না পাল্লা শেরার, ভদ্রমহিলা সম্রাজ্ঞী মারিয়া ফিয়দরত্নার প্রধান ও প্রিয় সখী। কথাগুলি বলা হলো প্রিন্স ভাসিলিকে; ভদ্রলোক উচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী; আজকের বৈঠকে সেই প্রথম সমাগত অতিথি। আন্না পানা কয়েকদিন যাবৎ কাশিতে ভুগছে। মহিলা নিজে অবশ্য বলেছে যে সে ‘লা গ্রিপ্লে’-তে ভুগছে; ‘গ্রিল্পে’ কথাটা সেন্ট পিতার্সবুর্গ-এ নতুন আমদানি হয়েছে; শুধু ভদ্রজনরাই কথাটা ব্যবহার করে থাকে।

তার সব আমন্ত্রণ-পত্রই ফরাসী ভাষায় লেখা; সকালেই সেগুলো বিলি করে এসেছে লাল পোশাক-পরা পরিচারক; তাতে লেখা ছিল:

“কাউন্ট (অথবা প্রিন্স), আপনার হাতে যদি কাজ না থাকে আর একটি অসহায় পঙ্গু মানুষের সঙ্গে সন্ধ্যাটা কাটানো যদি ভয়ংকর বলে মনে না করেন, তাহলে আজ রাতে ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে আপনার দর্শন পেলে খুবই পুলকিত হব,-আন্নেৎ শেরার।”

মহিলাটির কথায় বিন্দুমাত্রও ক্ষুব্ধ না হয়ে প্রিন্স বলল, “হা ভগবান! কী তীব্র আক্রমণ!” এইমাত্র সে ঘরে ঢুকেছে; পরনে নক্সা-করা দরবারী পোশাক, ব্রীচেস ও জুতো; বুকে অনেকগুলো তারকা আঁটা; চ্যাপ্টা মুখে গাম্ভীর্যের প্রকাশ। সে কথা বলল সেই চোস্ত ফরাসীতে যে ভাষায় আমাদের পূর্বপুরুষরা শুধু কথাই বলত না, চিন্তাও করত; সমাজের উঁচু মহলে ও দরবারের পরিবেশে মানুষ হওয়া মর্যাদাসম্পন্ন লোকের মতো তার কথা বলার ভঙ্গি। আন্না পাভলভনার কাছে এগিয়ে গিয়ে তার হাতে চুমো খেয়ে প্রিন্স তার সুগন্ধী, চকচকে টাকটাকে এগিয়ে দিয়ে মৌজ করে একটা সোফায় বসল।

“প্রিয় বান্ধবী, প্রথমেই বলুন আপনি কেমন আছেন। আপনার বন্ধুর মনকে শান্ত করুন,” গলার স্বরের কোনও রকম পরিবর্তন না করেই প্রিন্স বলল; আপাত ভদ্রতা ও সহানুভূতির অন্তরালে তার কণ্ঠস্বরের নিস্পৃহতা, এমন কি বিদ্রূপটাও চাপা পড়ল না।

আন্না পাভলভনার বলল, “মনের মধ্যে নৈতিক যন্ত্রণা নিয়ে কেউ কি ভাল থাকতে পারে? অনুভূতির বালাই থাকলে এখনকার মতো অবস্থায় কেউ কি শান্ত হতে পারে? আশা করি, সারা সন্ধ্যাটাই এখানে কাটাবেন?”

“আর ইংরেজ রাজদূতের ওখানকার উৎসবের কি হবে? আজ বুধবার। একবার তো আমাকে সেখানে দেখা দিতেই হবে,” প্রিন্স বলল। “আমাকে সেখানে নিয়ে যাবার জন্য আমার মেয়ে আসবে।”

“আমি ভেবেছিলাম আজকের উৎসবটা বাতিল করা হয়েছে। সত্যি বলছি, এই সব উৎসব আর আতসবাজি বড়ই ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে।”

“তারা যদি আপনার এই ইচ্ছাটা জানত তাহলে উৎসবটা অবশ্যই বন্ধ করে দিত,” প্রিন্স বলল। দম-দেওয়া ঘড়ির মতো অভ্যাসবশত সে এমন সব কথা বলে যা লোকে বিশ্বাস করুক তাও সে চায় না।

“ঠাট্টা করবেন না! আচ্ছা, নভসিলতসেভ-এর কাগজপত্র সম্পর্কে কি স্থির হয়েছে? আপনি তো সবই জানেন।”

ঠাণ্ডা নিরুৎসাহী গলায় প্রিন্স বলল, “সে খবর কে রাখে? কি স্থির হয়েছে? তারা স্থির করেছে যে বোনাপার্ত তার নৌকাগুলি পুড়িয়ে দিয়েছে, আর আমার বিশ্বাস, আমাদের নৌকাগুলি পোড়াতেও আমরা রাজী।”

প্রিন্স ভাসিলি সব সময়ই পুরনো পার্ট আওড়ানোর মতো করে টেনে টেনে কথা বলেন। অপর দিকে, চল্লিশ বছর বয়স হলেও আন্না পাভলভনা শেরার উত্তেজনায় ও আবেগে টগবগ করে। সব সময় উৎসাহে ভরপুর থাকাটাই যেন তার সামাজিক কর্তব্য; আর তাই মনের অবস্থা কখনও সে রকম না থাকলেও পাছে পরিচিত জনকে হতাশ করতে হয় এই ভয়েই তাকে উৎসাহশীল হতে হয়। তার ম্লান মুখের সঙ্গে মানানসই না হলেও তার ঠোঁট দু’খানিকে ঘিরে স্মিত হাসির রেখাটি সব সময়ই খেলা করে বেড়ায়; নিজের এই ত্রুটি সম্পর্কে সচেতন হলেও এটাকে সংশোধন করতে সে চায় না, সংশোধন করতে পারে না। সংশোধন করা প্রয়োজন বলেও মনে করে না।

রাজনীতিবিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে আন্না পাভলভনা হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠল:

“আঃ, অস্ট্রিয়ার কথা আমার কাছে বলবেন না। আমি হয় তো এ সব ব্যাপার বুঝি না, কিন্তু অস্ট্রিয়া কোনও দিন যুদ্ধ চায়নি, আজও চায় না। সে আমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে! রাশিয়া একাই ইউরোপকে বাঁচাবে। আমাদের মহামান্য সম্রাট এই মহৎ কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন, আর সে কর্তব্যে তিনি অবিচলই থাকবেন। এই একটি কথা আমি বিশ্বাস করি। আমাদের সৎ ও আশ্চর্য সম্রাট এই পৃথিবীতে একটি মহৎ ভূমিকা পালন করবেন; আর তিনি এতই ধার্মিক ও মহান যে ঈশ্বর তাঁকে পরিত্যাগ করবেন না। তাঁর কর্তব্য তিনি পালন করবেন, এই নরঘাতক শয়তানকে আশ্রয় করে যে সহস্রশীর্ষ সর্পরূপী বিপ্লব আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তাকে তিনি ধ্বংস করবেন! ভাল মানুষের রক্তের প্রতিশোধ শুধু আমাদেরই নিতে হবে…। আর কার উপর আমরা নির্ভর করতে পারি শুনি…? ব্যবসায়ীসুলভ মনোবৃত্তি নিয়ে ইংলন্ড কখনও সম্রাট আলেক্সান্দারের মহত্ত্বকে বুঝবে না, বুঝতে পারে না। সে তো মাল্টা ছেড়ে আসতেও আপত্তি করেছে। আমাদের সব কাজের মধ্যেই তো সে একটা গোপন অভিসন্ধি খুঁজে বেড়াচ্ছে। নভসিলতসেভ কি জবাব পেয়েছে? কিচ্ছু না। আমাদের সম্রাটের আত্মত্যাগকে ইংরেজরা বুঝতে পারেনি, পারবেও না। নিজের জন্য তিনি কিছুই চান না, চান শুধু মানুষের কল্যাণ। আর তারা কি দিচ্ছে? কিচ্ছু না! আর মুখে যেটুকু বা বলছে, কাজে তাও করছে না। প্রাশিয়া তো আগাগোড়াই বলছে, বোনাপার্ত অপরাজেয়; তার সামনে গোটা ইউরোপ অসহায়।… হার্ডেনবুর্গ বা হগউইজ-এর কথার এক বর্ণও আমি বিশ্বাস করি না। প্রাশিয়ার এই বিখ্যাত নিরপেক্ষতা তো একটা ফাঁদ মাত্র। আমার ভরসা শুধু ঈশ্বরকে, আর আমাদের পরমারাধ্য সম্রাটের মহৎ নিয়তিকে। ইউরোপকে তিনিই রক্ষা করবেন।”

নিজের আবেগে হেসে উঠে মহিলাটি হঠাৎ থেমে গেল।

প্রিন্স হেসে বলল, “আমার তো মনে হয়, আমাদের প্রিয় উইন্তজিনগেরোদ-এর বদলে আপনাকে যদি পাঠানো হত, তাহলে আপনি হয় তো গায়ের জোরেই প্রাশিয়ার রাজার সম্মতি আদায় করে নিতে পারতেন। আপনার যা গলার জোর। এক কাপ চা কি মিলবে?”

“এখনই।” শান্ত গলায় আবার বলল, “ভাল কথা, আজ রাতে দু’জন মজার লোককে আশা করছি। একজন ভাইকো’ত্ দ্য মর্তেমার্ত, সেরা ফরাসী পরিবার রোহাঁদের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে; একজন সত্যিকারের সৎ বিদেশী। অপরজন আবে রোমিও। সেই বিদগ্ধ চিন্তাশীল লোকটিকে আপনি চেনেন কি? সম্রাট তাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। শুনেছেন কি?”

প্রিন্স বলল, “তাদের সঙ্গে দেখা হলে খুশি হব। কিন্তু বলুন তো, এ কথা কি সত্যি যে বিধবা সম্রাজ্ঞী ব্যারন ফুংকে-কেই ভিয়েনাতে প্রথম সচিব নিযুক্ত করতে চাইছেন? ব্যারন লোকটি সব দিক থেকেই বড়ই বেচারি।”

প্রিন্স ভাসিলির ইচ্ছা ছিল এই চাকরিটা তার ছেলে পাক, কিন্তু অন্য সকলে বিধবা সম্রাজ্ঞী মারিয়া ফিয়রভনার কাছে দরবার করছিল যাতে ব্যারনই চাকরিটা পায়।

আন্না পাভলভনা চোখ দুটো প্রায় বুজে ফেলল; যেন বোঝাতে চাইল সম্রাজ্ঞী যা ইচ্ছা করেছেন, বা যাতে খুশি হয়েছেন তা নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার তারও নেই, বা অন্য কারও নেই।

শুকনো করুণ গলায় সে শুধু বলল, “বিধবা সম্রাজ্ঞীর বোনই ব্যারন ফুংকের নাম তাঁর কাছে সুপারিশ করেছিলেন।”

সম্রাজ্ঞীর নাম করতেই হঠাৎ আন্না পাভলভনা মুখে গভীর ও আন্তরিক অনুরাগ, শ্রদ্ধা ও বিষণ্ণতার একটা মিশ্র ভাব ফুটে উঠল। যতবার সে তার বিখ্যাত কর্ত্রীর নাম উল্লেখ করে ততবারই তার মুখে এই একই ভাব ফুটে ওঠে।

প্রিন্স নীরবে বসে রইল; কেমন একটু উদাসীন ভাব। আন্না পাভলভনা তাকে সান্ত্বনা দেবার জন্য বলল, “এবার আপনার পরিবারের কথা বলুন। আপনি কি জানেন যে আপনার মেয়েকে দেখে সকলেই মুগ্ধ? সকলেই বলছে, সে তো অপূর্ব সুন্দরী।”

শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য প্রিন্স মাথা নিচু করল।

“আমি অনেক সময়ই ভাবি,” একটু চুপ করে থেকে প্রিন্সের আরও কাছে ঘেঁষে প্রসন্ন হাসি হেসে তার দিকে তাকিয়ে মহিলাটি বলতে লাগল- “আমি অনেক সময়ই ভাবি, জীবনের সুখগুলিকে অনেক সময় কত অন্যায়ভাবেই না বণ্টন করা হয়ে থাকে। ভাগ্য আপনাকেই এমন দুটি চমৎকার সন্তান উপহার দিয়েছে কেন? একেবারে ছোট আনাতোলের কথা আমি বলছি না। তাকে আমি পছন্দ করি না। এমন চমৎকার দুটি সন্তান। অথচ আপনি তাদের মোটেই ভাল চোখে দেখেন না: তাই তো বলি, এমন সন্তান পাবার হক আপনার নেই।”

একটি স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে।

প্রিন্স বলল, “আমি কিন্তু নিরুপায়। লাভাতের হয় তো বলত, বাপ হবার মতো হিম্মৎই আমার নেই।”

“ঠাট্টার কথা নয়; আপনার সঙ্গে গুরুতর কথা আছে। আপনি কি জানেন, আপনার ছোট ছেলেকে নিয়ে আমি খুশি নই? নিজেদের মধ্যে বলেই বলছি, সম্রাজ্ঞীর কাছে তার কথা তোলায় তিনি আপনার জন্য দুঃখ করলেন…”

প্রিন্স কোনও কথা বলল না, কিন্তু জবাবের অপেক্ষায় মহিলাটি অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। প্রিন্স ভুরু কুঁচকাল।

অবশেষে বলল, “আপনি আমাকে কি করতে বলেন? আপনি তো জানেন তাদের লেখাপড়া শেখবার জন্য বাবার পক্ষে যা করা দরকার সে সবই আমি করেছি, কিন্তু তারা দু’জনেই মূর্খ। হিপোলিতা তবু শান্ত মূর্খ, কিন্তু আনাতোল তো দুরন্ত মূর্খ। দু’জনের মধ্যে ওইটুকুই যা তফাৎ।” অস্বাভাবিক হাসি হেসে সে কথাগুলি বলল; ফলে তার মুখের চারদিকে যে ভাঁজ পড়ল তাতে একটা অপ্রত্যাশিত কঠোরতা ও ক্ষোভই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠল।

“আপনার মতো মানুষের সন্তান হয় কেন? আপনি যদি বাবা না হতেন তাহলে তো আপনার বিরুদ্ধে আমার কিছুই বলার থাকত না,” চোখ তুলে বিষণ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আন্না পাভলভনা বলল।

“আমি আপনার অনুগত দাস, আর তাই একমাত্র আপনার কাছেই স্বীকার করছি যে আমার সন্তানরাই আমার জীবনের কলংক। এ দুঃখ আমাকে বয়ে বেড়াতেই হবে। এইভাবেই আমি নিজেকে বোঝাই। এর হাত থেকে রেহাই নেই।”

আর কোনও কথা বলল না। একটা বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করে নিষ্ঠুর নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণের ভাব প্রকাশ করল শুধু। আন্না পাভলভনা ভাবতে লাগল।

একসময় বলল, “আপনার অমিতব্যয়ী ছেলে আনাতোলের বিয়ের কথা কখনও ভেবেছেন কি? লোকে বলে, ঘটকালি করাটা বুড়িদের একটা নেশা, যদিও নিজের মধ্যে এখনও সে দুর্বলতা আমি বোধ করি না, তবু একটি ছোট মেয়ের কথা আমি জানি যে তার বাবাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছে। সে আপনার আত্মীয়াও বটে-প্রিন্সে মারি বল্কনস্কায়া।”

প্রিন্স ভাসিলি কোনও জবাব না দিলেও সাংসারিক লোকের পক্ষে উপযুক্ত ক্ষিপ্র স্মৃতিশক্তির বশে এমনভাবে মাথা নাড়ল যাতে মনে হলো যে এ খবরটা সেও ভেবে দেখছে।

অবশেষে মনের বিষণ্ণ চিন্তাস্রোতকে সংযত করতে না পেরে বলে উঠল, “আপনি কি জানেন যে আনাতোলের জন্য বছরে আমার চল্লিশ হাজার রুবল খরচ হয়? আর সে যদি এইভাবে চলতে থাকে তাহলে পাঁচ বছরে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে? আর বাবাদের এ সবই সহ্য করতে হয়…। আপনার এই প্রিন্সেসটি কি ধনবতী?”

“তার বাবা খুব ধনী ও কঞ্জুষ। গ্রামে থাকেন। তিনিই সুপরিচিত প্রিন্স কলকনস্কি; স্বর্গত সম্রাটের সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন; সকলে তাঁকে ‘প্রাশিয়ার রাজা’ বলেই ডাকে। লোকটি বুদ্ধিমান, কিন্তু ছিটগ্রস্ত ও বিরক্তিকর। মেয়েটি বড়ই কষ্টে আছে। তার একটি ভাই আছে। মনে হয় তাকে আপনি চেনেন, সম্প্রতি সে লিসা মীনেনকে বিয়ে করেছে। ছেলেটি কুতুজভ-এর এড-ডি-কং; আজ এখানে আসবে।”

হঠাৎ প্রিন্স আন্না পাভলভনার হাতটা চেপে ধরে যে কারণেই হোক হাতটাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলল, “শুনুন প্রিয় আন্নেৎ, এই ব্যবস্থাটা আপনি করে দিন, তাহলে চিরদিন আমি আপনার একান্ত বশংবদ দাস হয়ে থাকব। মেয়েটি ধনী, বংশও ভাল, আর আমিও তাই চাই।”

তারপর তার সুপরিচিত সহজ ভঙ্গিতে মহিলার হাতটি তার ঠোঁটের কাছে তুলে চুমো খেল এবং অন্য দিকে তাকিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে হাতটাকে এদিক-ওদিক দোলাতে লাগল।

একটু ভেবে আন্না পাভলভনা বলল, “শুনুন। আজ সন্ধ্যায়ই আমি ছোট বলকনস্কির স্ত্রী লিসার সঙ্গে কথা বলব; আশা করি ব্যবস্থাটা হয়ে যাবে। আপনার পরিবারের পক্ষ নিয়েই আমি ঘটকালির কাজে শিক্ষানবিশী শুরু করে দেব।”


(চলমান….)

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য